আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা

আমাশয় একটি সংক্রামক রোগ যা সাধারণত দূষিত খাবার বা পানি থেকে ছড়ায়। এতে পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা, বমি এবং ক্লান্তি হয়। আমাশয় হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। আজকে আমরা আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা সর্ম্পকে জানবো।

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • তরল খাবার: তরল খাবার শরীরে পানি এবং ইলেকট্রোলাইটগুলির স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা ডায়রিয়া এবং বমি দ্বারা হারিয়ে যেতে পারে। তরল খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে:
    • পানি
    • ডাবের পানি
    • চিড়ার পানি
    • স্যালাইন
    • ফলের রস
    • চা
  • উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার: উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে:
    • ফল
    • মধু
    • চিনি
  • উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার: উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার পেশী ভর বজায় রাখতে এবং শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে:
    • মাছ
    • মুরগির মাংস
    • ডিম
    • দুধ
    • দুগ্ধজাত পণ্য

আমাশয় রোগীর জন্য উপযুক্ত খাবার

  • তরল খাবার, যেমন: পানি, ডাবের পানি, ফলের রস, ওটমিল, চিড়ার পানি, ঝোল, স্যুপ ইত্যাদি।
  • ডাল, ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, দুধ, দই, ইত্যাদি।
  • ফল, যেমন: কলা, পেঁপে, আপেল, কমলা, আঙুর, ইত্যাদি।
  • শাকসবজি, যেমন: গাজর, শসা, মিষ্টি আলু, কচুর লতি, ইত্যাদি।

আমাশয় রোগীর জন্য কিছু খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, যেমন:

  • কাঁচা ফল এবং সবজি, যেমন: টমেটো, শসা, কাঁচা পেঁপে, কাঁচা গাজর, ইত্যাদি।
  • ভাজাপোড়া খাবার, যেমন: তেল, ঘি, মাখন, চর্বিযুক্ত খাবার, ইত্যাদি।
  • টক খাবার, যেমন: আচার, লেবু, ইত্যাদি।
  • মশলাদার খাবার, যেমন: ঝাল, মসলা, ইত্যাদি।

আমাশয় হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ খাওয়াও জরুরি।

আমাশয় রোগের ঔষধের নাম

আমাশয় রোগের ঔষধের নাম

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা থেকে যদি আমাশয় ভালো না হয় তবে ঔষধ খেতে হবে। আমাশয় রোগের ঔষধের নাম নির্ভর করে রোগের কারণ এবং তীব্রতার উপর। সাধারণত, আমাশয়ের চিকিৎসায় নিম্নলিখিত ঔষধগুলি ব্যবহার করা হয়:

  • অ্যান্টিবায়োটিক: শিগেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর, ই. কোলাই এবং সালমোনেলা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট আমাশয়ের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলির মধ্যে রয়েছে সিপ্রোফ্লক্সাসিন, পিভমেসিলিনাম, সেফট্রিয়াক্সোন এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন।
  • লবণাক্ত পানি: পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য লবণাক্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। এক লিটার পানিতে ১ চা চামচ লবণ এবং ৮ চা চামচ চিনি মিশিয়ে লবণাক্ত পানি তৈরি করা যেতে পারে।
  • ব্যথানাশক: আমাশয়ের কারণে ব্যথা হলে ব্যথানাশক ঔষধ সেবন করা যেতে পারে। সাধারণত ব্যবহৃত ব্যথানাশকগুলির মধ্যে রয়েছে প্যারাসিটামল, আইবুপ্রোফেন এবং অ্যাসিটামিনোফেন।
  • অ্যান্টিডিয়ারিয়াল: পাতলা পায়খানার প্রবাহ কমাতে অ্যান্টিডিয়ারিয়াল ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, এই ঔষধগুলি অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলি দেহ থেকে পানি ও ইলেকট্রোলাইট বের করে দিতে পারে।
আরো পড়ুনঃ  সজিনা পাতার উপকারিতা

শিশুদের আমাশয় হলে কি খাবার খাওয়া যাবে

শিশুদের আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা এবং আমাশয় হলে কি খাবার খাওয়া যাবে। আমাশয় হলে শরীর থেকে অনেক পানি ও পুষ্টি বেরিয়ে যায়, তাই শিশুকে সঠিকভাবে খাওয়ানো জরুরি। শিশুকে এমন খাবার খাওয়াতে হবে যা পাচনতন্ত্রে সহজে হজম হয় এবং মলের সাথে পানি ও পুষ্টির ক্ষয় রোধ করে। শিশুদের আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা হলে কি খাবার খাওয়া যাবে তা নিম্মরূপঃ

শিশুদের আমাশয় হলে খাওয়ানো যেতে পারে এমন কিছু খাবার হলো:

  • বুকের দুধ: বুকের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার। এটি শিশুর শরীরে পানি ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • মিষ্টি আলু, চাল, ওটমিল, পাস্তা: এই খাবারগুলো সহজে হজম হয় এবং মলের সাথে পানি ও পুষ্টির ক্ষয় রোধ করে।
  • কাটা ফল ও শাকসবজি: কাটা ফল ও শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এগুলো শিশুকে শক্তি ও পুষ্টি জোগায়।
  • মাংস, মাছ, ডিম: এই খাবারগুলো আমিষের ভালো উৎস। আমিষ শিশুর শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজন।

আমাশয় হলে করণীয়

  • প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার পান করুন, যেমন পানি, ডাবের পানি, ফলের রস, ইত্যাদি। এটি আপনাকে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করবে।
  • হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার খান, যেমন ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, ইত্যাদি।
  • অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করুন, যদি ডাক্তার পরামর্শ দেন।
  • আপনার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন। প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পরে আপনার হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলুন।
  • অন্যদের সংক্রমিত করা এড়াতে, টয়লেট ব্যবহারের পরে টয়লেটের সিট এবং হ্যান্ডল জীবাণুমুক্ত করুন।

রক্ত আমাশয় হলে করণীয়

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন। এতে ডায়রিয়ায় হারিয়ে যাওয়া পানি এবং ইলেক্ট্রোলাইটগুলি পূরণ করতে সাহায্য করবে। তরল পান করার জন্য আপনি পানি, লেবুর পানি, ডাবের পানি, চা, বা স্যুপ খেতে পারেন।
  • তরল পান করার পাশাপাশি, ডায়রিয়া কমাতে সাহায্য করার জন্য আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে পারেন।
  • খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করুন। ডায়রিয়ার সময় ভারী, তৈলাক্ত, বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। হালকা, সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন ভাত, মাছ, বা মুরগির মাংস খান।
  • ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দিন। ডায়রিয়া ছড়ানো এড়াতে আপনার হাত নিয়মিত সাবান এবং জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
আরো পড়ুনঃ  আঁচিল দূর করার ক্রিম

আমাশয়ের জন্য কোন খাবার সবচেয়ে ভালো?

আমাশয়ের জন্য কোন খাবার সবচেয়ে ভালো

আমাশয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো খাবার হল এমন খাবার যা আপনার অন্ত্রকে শান্ত করতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে। আমাশয় রোগীর খাবার তালিকাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • তরল খাবার: আমাশয়ের সময় প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। তরল খাবারের মধ্যে রয়েছে জল, ডাবের পানি, চিড়ার পানি, ওআরএস, ফলের রস, চা, এবং কফি।
  • ভাত: ভাত একটি হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার যা আমাশয়ের জন্য ভালো। এটি আপনার অন্ত্রকে শান্ত করতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
  • ওটমিল: ওটমিল একটি আরেকটি হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার যা আমাশয়ের জন্য ভালো। এটি আপনার অন্ত্রকে শান্ত করতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
  • শূকর মাংসের ঝোল: শূকর মাংসের ঝোল একটি পুষ্টিকর এবং হালকা খাবার যা আমাশয়ের জন্য ভালো। এটি আপনার অন্ত্রকে শান্ত করতে এবং পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করবে।
  • হলুদ দুধ: হলুদ দুধ একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি। এটি আমাশয়ের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আমাশয় রোগের প্রতিকার

আমাশয়ের প্রতিকারের জন্য, প্রথমত, রোগের কারণ নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটি করার জন্য, একজন ডাক্তার রোগীর একটি পরীক্ষা এবং রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। রোগের কারণ নির্ধারণ করার পরে, ডাক্তার উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন।

আমাশয়ের চিকিৎসা সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি রোগজীবাণুগুলিকে মেরে ফেলে যা আমাশয়ের কারণ হয়। যদি আমাশয়ের কারণ হয় ব্যাকটেরিয়া দ্বারা, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সাধারণত কার্যকর হয়।

আমাশয়ের চিকিৎসায় অন্যান্য ওষুধগুলিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • জলশূন্যতা রোধ করার জন্য তরল
  • পেট ব্যথা এবং ক্র্যাম্পের জন্য ব্যথানাশক
  • ডায়রিয়ার তীব্রতা কমাতে ওষুধ

আমাশয়ের তীব্রতা এবং রোগীর বয়স এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর নির্ভর করে চিকিৎসার সময়কাল পরিবর্তিত হতে পারে। সাধারণত, অ্যান্টিবায়োটিকগুলি 5-7 দিনের জন্য নেওয়া হয়।

আরো পড়ুনঃ  এম এম কিট খাওয়ার কতোদিন পর বুঝা যায় বাচ্চা নষ্ট হয়েছে

বাচ্চাদের আমাশয় রোগ হলে করনীয়

বাচ্চাদের আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা এর সাথে আরো কিছু টিপস দিলাম আপনাদেরকে যাতে করে আপনার শিশু সুস্থ থাকতে পারে।

  • শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাওয়ান। পানিশূন্যতা রোধ করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে পানি, ডাবের পানি, ORS, বা ঘরে তৈরি স্যালাইন খাওয়ানো যেতে পারে।
  • শিশুকে হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার খাওয়ান। এই ধরনের খাবারে রয়েছে চালের ঝোল, ডাল, ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, ফল, শাকসবজি, ইত্যাদি।
  • শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ান। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
  • শিশুকে বিশ্রাম দিন।

আমাশয় হলে কি দুধ খাওয়া যায়

না, আমাশয় হলে দুধ খাওয়া উচিত নয়। তাই, আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা থেকে দুধ বাদ দিতে হবে। আমাশয়ের প্রধান লক্ষণ হলো পাতলা, জলযুক্ত মলত্যাগ। দুধে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটোজ থাকে, যা কিছু লোকের জন্য হজম করা কঠিন হতে পারে। আমাশয়ের সময়, ইতিমধ্যেই হজমশক্তি দুর্বল থাকে। তাই দুধ খেলে আরও বেশি পেট খারাপ হতে পারে।

আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা ও ঔষধের নাম

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা এবং ঘরোয়া চিকিৎসা ও ঔষধের নাম নিচে দেওয়া হলোঃ

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা, যা ডিহাইড্রেশন রোধ করতে সাহায্য করবে।
  • ডায়রিয়া কমাতে সাহায্য করার জন্য ইলেকট্রোলাইট পানীয় বা অলিভ অয়েল পান করা।
  • পেটে ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমাতে ওষুধ সেবন করা।
  • ঘরোয়া প্রতিকারগুলির মধ্যে রয়েছে:
    • গরম পানি দিয়ে sitz bath নেওয়া।
    • পেটে হালকা চাপ দেওয়া।
    • কাঁচা পেঁপে খাওয়া।
    • আদা চা পান করা।

আমাশয়ের জন্য ব্যবহৃত কিছু ঔষধের মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যান্টিবায়োটিক, যেমন টেট্রাসাইক্লিন বা মেট্রোনিডাজল, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিরাময়ে সাহায্য করে।
  • অ্যান্টি-ডায়ারিয়াল, যেমন লোপেরামাইড বা বিসকোডিল, ডায়রিয়া কমাতে সাহায্য করে।
  • অ্যানালজিক, যেমন ইবুপ্রোফেন বা অ্যাসিটামিনোফেন, পেটে ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

উপসংহার

আমি আশা করছি উপরের লেখা থেকে আপনি আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়ে গেছেন। এর পাশাপাশি আপনার যদি আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা সম্পর্কে আর কিছু জানার থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ এলার্জি ঔষধ এর নাম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top