পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২৩

বিদেশে ভ্রমণ করার সময়, আপনার প্রথমে যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল “পাসপোর্ট”। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে এই পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াটি কঠিন, তবে তা নয়। দেশটি একটি ই-পাসপোর্ট চালু করার উদ্দেশ্যে, তবে এটি এখনও করতে পারেনি। ফলস্বরূপ, সবাই একটি স্ট্যান্ডার্ড এমআরপি এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) ব্যবহার করতে পারে। এবং আজকের নিবন্ধটি সেই ব্যক্তিদের জন্য যারা তাদের প্রথম পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন। এই পোস্টটিতে আমরা পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ

পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার জন্য নিম্নলিখিত নিয়ম ও খরচ রয়েছে:

নিয়ম

  • পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করা যাবে। এছাড়াও, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসেও সরাসরি আবেদন করা যাবে।
  • অনলাইনে আবেদন করার জন্য, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dip.gov.bd) গিয়ে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে।
  • আবেদন ফর্ম পূরণের পর, আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ব্যাংকে ফি পরিশোধ করতে হবে।
  • ফি পরিশোধের পর, আবেদনপত্রটি ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • জন্মনিবন্ধন সনদপত্র
  • নাগরিক সনদপত্র
  • পেশা প্রমাণের কাগজ
  • ছবি (সদ্য তোলা, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের, ৫০x৫০ মিমি)
  • আবেদনপত্র

ফি

পাসপোর্টের মেয়াদ অনুযায়ী ফি নিম্নরূপ:

  • ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৪০২৫ টাকা
  • ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৬৩২৫ টাকা
  • ৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৪৫২৫ টাকা
  • ১০ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৬৮২৫ টাকা
আরো পড়ুনঃ  মোবাইল নাম্বার দিয়ে পরিচয় বের করার উপায়

সময়

  • সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদন করার ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
  • জরুরী পাসপোর্টের ক্ষেত্রে আবেদন করার ৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

অন্যান্য

  • পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
  • পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর ছবি অবশ্যই ৬ মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে।
  • পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়।

পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি

পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ মাস আগে থেকে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা যাবে। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ফি নিম্নরূপ:

  • ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ২৭২৫ টাকা
  • ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৪০২৫ টাকা
  • ৫ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৩০২৫ টাকা
  • ১০ বছর মেয়াদী ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: ৪৩২৫ টাকা

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে নিম্নলিখিত কাগজপত্র ও দলিলপত্র লাগে:

  • পাসপোর্ট আবেদন ফরম (নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ২ কপি এবং পুনর্নবীকরণ আবেদনের ক্ষেত্রে ১ কপি)
  • ছবি (৩০x২৫ মিমি)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রের ফটোকপি (১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে)
  • পাসপোর্ট ফির ব্যাংক ভাউচার
  • চশমা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে চশমা ছাড়া ছবি (অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)
  • বিবাহিতদের ক্ষেত্রে বিবাহের সনদপত্রের ফটোকপি
  • বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে ভিসার আবেদনপত্র

অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগে:

  • অভিভাবকের পাসপোর্টের ফটোকপি
  • অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • অভিভাবকের সম্মতিপত্র

পাসপোর্ট আবেদন ফরম ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায় অথবা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করা যায়।

পাসপোর্ট ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ এবং ডেলিভারি সময়ের উপর। বর্তমানে ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের স্বাভাবিক সময়ে ডেলিভারির জন্য ফি ৪,০২৫ টাকা, এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ফি ৬,৩২৫ টাকা এবং অতিরিক্ত দ্রুত ডেলিভারির জন্য ফি ৮,৬২৫ টাকা।

আরো পড়ুনঃ  RFL Web Do BD

ই পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশ থেকে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলি হল:

  • জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র (১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য)
  • পেশার প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য হলে)
  • নাগরিকত্ব সনদ (প্রযোজ্য হলে)
  • পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে)
  • স্বাক্ষরকৃত পাসপোর্ট আবেদনপত্র
  • ৩টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সদ্য তোলা, সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর, ৬ মাসের বেশি পুরানো নয়)
  • পাসপোর্ট ফি

এছাড়াও, আবেদনকারীর বয়স, পেশা, পূর্বে পাসপোর্ট থাকা বা না থাকার ওপর ভিত্তি করে আরও কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। যেমন:

  • স্কুল বা কলেজ সার্টিফিকেট (ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য)
  • কর্মসংস্থানের সনদপত্র (কর্মজীবীদের জন্য)
  • ব্যবসায়ের নিবন্ধন সনদপত্র (ব্যবসায়ীদের জন্য)
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (প্রযোজ্য হলে)

ই-পাসপোর্ট আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে। আবেদনপত্র পূরণ করার পর, অনলাইনে বা ব্যাংক ড্রাফের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি প্রদান করতে হবে। ফি প্রদানের পর, পাসপোর্ট অফিসে আবেদনকারীকে উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। সাক্ষাৎকারে পাসপোর্ট আবেদনপত্র, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র ইত্যাদি কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড

পাসপোর্ট আবেদন ফরম

download

পাসপোর্ট করার নিয়ম ফরম ও কাগজপত্র সত্যায়িত করা

পাসপোর্টের আবেদন ফরম ও কাগজপত্র সত্যায়িত করার জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:

১. পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ করুন।

২. আবেদন ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।

৩. কাগজপত্রগুলো ভালোভাবে পিন দিয়ে লাগান।

৪. কাগজপত্রগুলো নোটারী পাবলিক বা পাসপোর্ট অফিসের একজন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান।

৫. কর্মকর্তা ফরম ও কাগজপত্রগুলো দেখে নিশ্চিত করুন যে সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।

৬. কর্মকর্তা তার সত্যায়নের জন্য স্বাক্ষর ও সিল দিন।

পাসপোর্ট করার পুলিশ ভেরিফিকেশন

পাসপোর্ট করার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন হল একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদনকারীর ব্যক্তিগত এবং জাতীয়তা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। এটি পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর যোগ্যতা নির্ধারণ করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ  নগদ একাউন্ট কোড ভুলে গেলে করণীয়

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন সাধারণত নিম্নলিখিত তথ্যগুলি যাচাই করে:

  • পাসপোর্ট আবেদনকারীর নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য
  • পাসপোর্ট আবেদনকারীর নাগরিকত্ব এবং জাতীয়তা
  • পাসপোর্ট আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ বা মামলা আছে কিনা

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সাধারণত পাসপোর্ট আবেদনকারীর আবেদনপত্রের ভিত্তিতে শুরু হয়। পাসপোর্ট আবেদনপত্রে পাসপোর্ট আবেদনকারীর ব্যক্তিগত এবং জাতীয়তা সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। পুলিশ ভেরিফিকেশন অফিসার এই তথ্যগুলি যাচাই করার জন্য পাসপোর্ট আবেদনকারীর আবেদনপত্র, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ, ইত্যাদি সহ বিভিন্ন নথি পরীক্ষা করেন।

পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক কিভাবে করবো?

পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  1. বাংলাদেশ পাসপোর্ট অফিসের ওয়েবসাইট https://www.epassport.gov.bd/landing এ যান।
  2. “পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করুন” লিঙ্কে ক্লিক করুন।
  3. “অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (OID) অথবা অ্যাপ্লিকেশন আইডি” ঘরে আপনার OID অথবা অ্যাপ্লিকেশন আইডি প্রবেশ করুন।
  4. “জন্ম তারিখ” ঘরে আপনার জন্ম তারিখ প্রবেশ করুন।
  5. “ক্যাপচা” কোড প্রবেশ করুন এবং “চেক” বাটনে ক্লিক করুন।

পাসপোর্ট সংগ্রহ কোথা থেকে করা হয়?

যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তাহলে আপনার পাসপোর্টের প্রকারের উপর নির্ভর করে আপনার পাসপোর্ট 7 দিন বা 20-30 দিনের মধ্যে পাওয়া উচিত।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে, আপনি আপনার ফোনে একটি এসএমএস বিজ্ঞপ্তি পাবেন। আপনি অনলাইনেও স্ট্যাটাস চেক করতে পারেন। এছাড়া পাসপোর্টে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ মোবাইল নাম্বার দিয়ে কারো পরিচয় বের করার উপায়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top